সমস্ত অব্যক্ত কষ্ট আর নীরব দীর্ঘশ্বাসের অরণ্যে দাঁড়িয়ে তোমাকে লিখছি আজ - জানি না এই চিঠি কোনোদিন পৌঁছাবে কিনা তোমার শূন্য মুখপানে, নাকি এও নিঃশব্দে হারিয়ে যাবে এক নিরুদ্দেশ নির্বাসনে, যেমন করে তুমিও হারিয়ে গেছো আমার জীবনচক্র থেকে।
![]() |
| শূন্যতার ঠিকানায় এক অবদমন করা চিঠি |
তবুও লিখছি... কারণ কিছু বেদনা বোবা থাকলে আত্মা ঝরে পড়ে এক অব্যাখ্যেয় ক্ষয়ে!
তুমি কি কখনো বুঝতে পেরেছিলে, শূন্যতা কতটা ভারী হয়? আমি প্রতিদিন সেই ওজন বইছি, প্রতিটি নিশ্বাসে অনুপস্থিতির এক অস্থির বেদনাবহ ভার! আমার চারপাশে এখন আর সময় নয়, কেবল এক অনন্ত প্রতীক্ষার কারাগার - যেখানে স্মৃতিরা ঘুরে বেড়ায়, অথচ ধরা দেয় না, ছোঁয়া যায় না।
তোমার চলে যাওয়া শুধুই শারীরিক অনুপস্থিতি নয়, ছিল আমার অস্তিত্বের ভিতর থেকে ক্ষয়ে যাওয়া এক দীর্ঘ অবসান! আমার হৃদয়ের অলিন্দে যে ভালোবাসার দীপজ্বালা জ্বলতো, তা আজ নিভে গিয়ে এক মৃত ছাই, যেখানে আলো নেই, কেবল ধ্বংসের ধূসরতা!
প্রতিটি রাত এখন এক নীরব আত্মগ্লানির আয়না, যেখানে ক্লান্ত প্রতীক্ষা পায়ে শিকল বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে কাঁপতে থাকা চোখের পাতায়! সময় চলে যায়–তবে আমি আটকে রয়েছি এক চিরকালীন ব্যথার আবর্তে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধুই ‘তুমি’ - এক অপার্থিব শূন্যতা হয়ে বিদ্ধ করছো আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস!
তুমি কি জানো, হারিয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা এক অন্তহীন মৃত্যুর মতো – যা শেষ হয় না কখনো, বরং প্রতিদিন নতুন করে শুরু হয়, নতুন করে ছিন্নভিন্ন করে আমাকে, আর ঠেলে দেয় অতল শূন্যতার গহ্বরে!
আজ ভালোবাসা আমার কাছে এক নির্বাসিত শব্দ - যার কোনো উচ্চারণ নেই, নেই কোনো প্রত্যাবর্তনের ভাষা। আমি আজও দাঁড়িয়ে আছি সেই পুরোনো ঠিকানায় - যেখানে প্রত্যাশা এক মরিচীকা, আর ‘ফিরে আসা’ কেবলই এক নিষ্ঠুর প্রতারণা!
জানি, এই চিঠি কোনোদিন পৌঁছাবে না তোমার হাতে, কারণ তুমি তো এখন শুধুই এক অনুপস্থিতি—এক বিস্মৃতির মতো নির্বাক অন্ধকার, যার অস্তিত্ব কেবলই শূন্যতায় প্রতিধ্বনিত হয়। তবুও লিখে গেলাম, কারণ কিছু কষ্ট বলার জন্য নয় - তাদের বলা প্রয়োজন আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য!
ভালো থেকো, মায়াবতী!
আর যদি কোনো এক দিন তোমার শূন্যতা ভেদ করে ফেরার ইচ্ছে জাগে - তবে মনে রেখো, আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি সেই অসমাপ্ত অনুভবের মোহনায়, যেখানে সময় থেমে আছে শুধুই তোমার অপেক্ষায়...
ফিরে এসো – তবুও, একবার…
নোটঃ লিখতে ভালো লাগে তাই লিখছি..

0 মন্তব্যসমূহ