বিজ্ঞাপন

স্বপ্নগুলো ঘুমিয়ে পড়ে শহরের রাস্তায়

স্বপ্নগুলো ঘুমিয়ে পড়ে শহরের রাস্তায় রাত এখন গভীর। শহরের উড়ালসেতুর নিচে আলো-ছায়ার খেলা চলছে। বাতাসের সাথে ভেসে আসছে ক্লান্তির গন্ধ, যেন ক্লান্ত মানুষ গুলোর নিঃশ্বাস মিশে আছে ধুলো আর ধোঁয়ায়। শহর এখন ঘুমিয়ে আছে— কিন্তু ঘুমায়নি তাদের স্বপ্ন, যাদের ঠিকানা এই রাস্তাই।



রিকশাটা পাশে দাঁড়িয়ে আছে, যেন প্রহরী। সারাদিন মানুষের বোঝা টেনে সে-ও ক্লান্ত। কিন্তু তার মালিকের মতোই নিঃশব্দ, ধৈর্যশীল। খালি গায়ে স্বপ্ন চাদরটা জড়িয়ে এক কোণে গুটিশুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে এক মানুষ— হয়তো নাম তার হাফিজ, হয়তো রশিদ, আবার হয়তো কেউই জানে না তার নাম।

ভোরবেলা থেকে শুরু করে রাত অবধি রোদ-বৃষ্টি-ধুলার সঙ্গে লড়াই করে চলে তাদের জীবন। কারও ঘরে সন্তান অসুস্থ, কারও মেয়ের স্কুলের বেতন বাকি, কারও মা গ্রামের হাসপাতালে শুয়ে আছে। কিন্তু শহর এসব জানে না। শহর শুধু চায় তাদের প্যাডেল চালানো পা দুটো অবিরাম ঘুরুক।

দিন শেষে, যখন আমরা সবাই ক্লান্ত শরীরে নরম বিছানায় আশ্রয় খুঁজি, তখন তারা খুঁজে নেয় রিকশার ছাউনি কিংবা ফুটপাথের ঠাণ্ডা টালি। একটুকরো চাদর, একটা থালা ভাত, আর মাথার নিচে পুরোনো বালিশ — এই তাদের বিলাসিতা।

তবু তারা স্বপ্ন দেখে। হয়তো একদিন নিজের ঘর হবে, মেয়েটা স্কুলে যাবে, বুড়ো মা আর কাঁদবে না। কিন্তু সেই স্বপ্নগুলোও ঘুমিয়ে পড়ে শহরের রাস্তায় — ঠিক তাদের মতোই ক্লান্ত, নীরব, আলোছায়ায় ঢাকা।

তবু পরদিন সকালে তারা আবার জেগে ওঠে।

শহরের মানুষের হাসি-দুঃখ, বৃষ্টি-রোদ সবকিছুর সাক্ষী হয়ে, আবার প্যাডেল ঘুরিয়ে চলতে থাকে জীবনের পথে। কারণ রিকশাওয়ালাদের জীবন থেমে থাকে না।

থেমে থাকে শুধু তাদের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো, ফুটপাতের এক কোণে, ছেঁড়া চাদরের নিচে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

স্বপ্নগুলো ঘুমিয়ে পড়ে শহরের রাস্তায়