বিজ্ঞাপন

নামাজের ধারে না, কোরবানিতে লাল গরু কিনে

প্রতি বছর ঈদুল আযহা ঘিরে দেশে কোরবানির পশু কেনা-বেচায় জমজমাট পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। তবে অনেক সময় দেখা যায়, নামাজ বা ইসলামের মৌলিক বিধান যথাযথভাবে না মেনেও কিছু মানুষ ঈদে 'দৃষ্টিনন্দন' বা 'দামি' কোরবানির পশু কেনার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন। এ নিয়ে সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

নামাজের ধারে না, কোরবানিতে লাল গরু কিনে

এ রকমই এক ব্যক্তি, যিনি পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কথা বলেন, বলেন, “আমি নামাজটা ঠিকমতো পড়ি না, তবে কোরবানির সময় ভালো একটা লাল গরু না কিনলে মনে হয় সমাজে মান থাকে না।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলেও তা ইসলামি জীবনব্যবস্থার সামগ্রিক চর্চার অংশ। শুধুমাত্র বাহ্যিকভাবে কোরবানি দিয়ে ধর্মীয় কর্তব্য পূর্ণ হয় না।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, “নামাজ ইসলামের মূল স্তম্ভগুলোর একটি। কেউ যদি নামাজ না পড়ে অথচ কোরবানি করে, তবে তা একধরনের অসম্পূর্ণ ধর্মচর্চা। কোরবানি তখনই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা তাকওয়ার ভিত্তিতে হয়—শুধু সামাজিক প্রচার নয়।”

সামাজিক বাস্তবতা:

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনেকে কোরবানিকে আজকাল ‘স্ট্যাটাস’ বা সামাজিক সম্মান অর্জনের একটি উপায় হিসেবে দেখছেন। ফলে কোরবানির উদ্দেশ্য হারিয়ে যাচ্ছে এবং তা অনেক সময় লোক দেখানো হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

শেষকথা বলতে পারি:

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ইবাদত কোনো প্যাকেজ নয়—যে কেবল একটি অংশ পালন করলেই পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। নামাজ, রোজা, কোরবানি সবই ইসলামের মৌলিক অংশ, এবং এগুলো আন্তরিকতা ও আনুগত্যের ভিত্তিতে পালন করলেই তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়। তাই শুধু লাল গরু কিনে নয়, বরং পুরো ইসলামী জীবনধারা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাটাই কাম্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

স্বপ্নগুলো ঘুমিয়ে পড়ে শহরের রাস্তায়