মানুষের কোলাহলে হারিয়ে যেতে যেতে বুঝে গেছি – সবচেয়ে গভীর নিঃসঙ্গতা আসে তখনই, যখন আশেপাশে অনেক মানুষ থাকে, কিন্তু কেউ মন ছুঁয়ে যায় না।
![]() |
| ছবি: সফিকুল ইসলাম |
হাজারো কথার ভিড়ে আমার ভেতরের নীরবতা যেন ক্রমে আরও গভীর হয়। হাসির ঢেউয়ে চারপাশ ভেসে গেলেও আমার বুকের ভেতরে কেবল স্তব্ধতা জমে।
এই একাকীত্বের শুরুটা হয়েছিল সেদিন, যেদিন কাউকে মন খুলে বিশ্বাস করেছিলাম। চেয়েছিলাম একটু ভালোবাসা, একটু গুরুত্ব, একটু নিজস্ব একটা স্থান। কিন্তু সময় বুঝিয়ে দিয়েছে – সব ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না। কিছু অনুভব জন্ম থেকেই একপাক্ষিক হয়।
প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভাঙে, কিন্তু নতুন করে বাঁচার ইচ্ছে আর জাগে না। আয়নায় তাকালে নিজেকেই অচেনা লাগে। চোখের নিচে জমে থাকা ক্লান্তি, ঠোঁটের কোণে নিঃশব্দ অভিমান, আর বুকের গভীরে এক অসহনীয় শূন্যতা।
আমি হয়তো কখনো প্রকাশ করিনি, কিন্তু অগণিত রাত জেগে জানালার ধারে বসে, নক্ষত্র গুনতে গুনতে অনেকবার ভেঙে পড়েছি।
আপনি হয়তো জানেন না, আমি কীভাবে নিঃশব্দে আপনাকে ভালোবেসেছিলাম, আপনার সেই ‘নীরবতা’ কীভাবে আমার পৃথিবীটাকে নিঃশব্দ করে দিয়েছিল।
মানুষকে ভুলি না আমি, কিন্তু অপেক্ষার ভারে আমি নিজের অস্তিত্বটাই হারিয়ে ফেলেছি। ভালোবাসতে চেয়েছিলাম আপনাকে, আর পেয়ে গেছি এক অমোচনীয় নীরবতা। কাছে টানতে চেয়েছিলাম, অথচ হারিয়ে ফেলেছি চিরতরে।
আজ আমার সঙ্গী শুধু স্মৃতি আর একাকীত্ব – সেই সব স্মৃতি, যেখানে আপনি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল, আর আমি নিঃশব্দে আপনাকে ভালোবাসতে ভালোবাসতে একা হয়ে গিয়েছিলাম। এখন একাকীত্বই আমার নিত্যসাথী।
কেউ জিজ্ঞেস করলে বলি ‘ভালো আছি’ কারণ আমি এখন একাকীত্বের ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া একজন মানুষ। তবু মন জানে, এই নীরবতা – এ এক অজানা অভিশাপ, যে ভালোবাসা পেয়েও না-পাওয়ার মতো পোড়ে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই লেখাগুলো আমার ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করে না। লিখতে ভালো লাগে তাই লিখছি।

0 মন্তব্যসমূহ